1. admin@snb24bd.com : admin :
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মোংলায় ৭০ কেজি বিষ মিশ্রিত চিংড়ি মাছ জব্দ কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট ইনামুল হোসাইন সুমন এর পক্ষ থেকে দুস্থদের ঈদ উপহার শ্যামনগর বাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক এম,কামরুজ্জামান ইউপি সদস্য আনারুলের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে শ্যামনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শ্যামনগরে মৎস্য ঘের নিয়ে প্রতিপক্ষের হুমকিতে থানায় পরপর দুই জিডি শ্যামনগরে আত্মসমর্পনকৃত জলদস্যুদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ শ্যামনগরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু শ্যামনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী মৃত্যুু শ্যামনগরে র‌্যাবের উপর হামলা” আহত- ৮ শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কারীকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমান

সত্যি ঢাকা শহর এতো অপরুপ

সম্পাদনা :শাকিল খান সাব এডিটর
  • সময় : বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১
  • ৩৯ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


সম্পাদনা :শাকিল খান সাব এডিটর

লেখকঃ- সাজল যাহিদ

 

প্রায় ১৫  বছর হল পাকাপাকি ভাবে ঢাকায় থাকি। কিন্তু কখনো কেন যেন শহরের প্রতি ভালোবাসা জন্মেনি আমার! ঢাকাকে কখনোই মন থেকে আপন করে নিতে পারিনি। কিভাবে পারবো, ঢাকা শহরকে যে সব সময় আমাদের কাছে তুলে জ্যাম, ধুলো, ভাঙাচোরা আর এবড়োথেবড়ো একটা শহর হিসেবে। আর আমরাও যারা বাইরে থেকে শুধুমাত্র জীবিকার তাগিদে এখানে আসি, তারা যখন ঢাকার রাজপথে বের হই, তখন এই শহর শুধু ঘাম, জ্যাম, গরম আর অসহ্য কিছু মুহুর্তই আমাদেরকে উপহার দিয়ে যায়। তাই কখনো এই শহরের প্রতি মায়া, ভালোবাসা বা প্রেম জন্ম নিতে পারেনি, নেয়নি।

কিন্তু আজ, আজকের একদম ফাকা রাজপথের অন্য রকম এক ঢাকা শহর দেখে আমি এই শহরের প্রতি মায়া আর ভালোবাসা জন্ম না নেয়াতে গভীর ভাবে অনুতপ্ত হয়েছি, নিজেকে নিজেই গালি দিয়েছি, এতোদিন কেন এই শহরের এতো রুপ আমার চোখ এড়িয়ে আড়ালে ছিল তার জন্য ভীষণ রকম মন খারাপ করেছি! আর এতোদিন তার রুপ দেখতে না পেয়ে, তাকে ভালো না বেসে থাকার জন্য, ঢাকার কাছে মনে মনে, মনের গভীর থেকে ক্ষমা চেয়েছি! সত্যি বলছি প্রায় পনের বছর এই শহরে কাটিয়ে দেয়ার পরে আজ প্রথম এই শহরের প্রেমে পড়েছি! এই শহরটাকে ভালোবেসে ফেলেছি, আজই প্রথম এই শহরের মায়ায় বাধা পড়তে ইচ্ছে হয়েছে!

কিন্তু কেন? কি এমন হয়েছে আজ সকালে যে পনের বছরের অসহ্য শহর একটা সকালেই আমাকে তার প্রতি এতো আবেগ, এতো ভালোবাসা আর এতো মায়ার জন্ম দিয়েছে! সেটা কি সম্ভব এতো দিনের ক্ষত মাত্র এক দিনেই ধুয়েমুছে গিয়ে সেখানে প্রেম ভালোবাসার মত আবেগি ব্যাপারে ভেসে যাওয়া?

তা যায় কি যায়না, সেই তর্কে যেতে ইচ্ছে করছেনা। তবে মধ্য জীবনে এসে আজ সকালে প্রথমবারের মত ঢাকা শহরকে আমি এমন অপরুপ রুপে দেখেছি, পেয়েছি, অনুভব করেছি আর তার মায়ার বাঁধনে পড়ে গিয়ে এই শহরকে ভালোবেসে ফেলেছি। কেন আর কিভাবে বলছি…

ইতালি আর স্পেনের খেলা যখন শেষ হল তখন ভোর চারটা পেরিয়ে গেছে। বিছানায় গিয়েছি ঘুমাবো বলে। দোয়া পড়তে পড়তেই ফজরের আজান কানে এলো। নিজেকে নবী রাসুলের পরে আল্লাহর অন্যতম প্রিয় বান্দা মনে করা আমি কিভাবে আজান শুনে নামাজ না পড়ে ঘুমাই! সেই বিবেক বোধ থেকেই আবারো বিছানা ছেড়ে নামাজ পরতে ওঠা। নামাজ শেষ করে বাইরে তাকিয়ে দেখি সবে মাত্র সকালের আলো ফোঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাইরের আকাশ। দারুণ স্নিগ্ধ একটা সকাল, হালকা মেঘলা আকাশ, ঝিরিঝিরি বাতাসে বেলকোনির গাছেরা আমাকে ওদের কাছে টেনে নিয়ে গেল। সকালে আবার আর একটা রোমাঞ্চকর খেলা আছে বলে ঘুমানো কি ঘুমাবোনা এই ভাবনায় পেয়ে বসলো আমাকে। আবার সারা রাত না ঘুমিয়ে এই সকালে জেগে থাকাও খুব মুশকিল। ঠিক তক্ষুনি মনে হল, আরে এমন শীতল আর স্নিগ্ধ একটা সকালে দুই ঘন্টা সাইকেল চালিয়েই তো কাটিয়ে দেয়া যায় অনায়াসে!

যে ভাবনা সেই কাজ। ঝটপট নিজেকে সাইকেল চালানোর জন্য প্রস্তত করে নিলাম। বর্তমান সময়ের কথা মাথায় রেখে, অফিসের আডি কার্ড, কিছু খুচরো টাকা, পানির বোতল, মোবাইল আর হেড ফোন লাগিয়ে বের হয়ে গেলাম। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল মিরপুর ১২ থেকে চন্দ্রিমা অবদি গিয়ে ফিরে আসবো। কারন আমার অতি সাধারণ আর ধীর গতির সাইকেল। সেই ভাবনা নিয়েই বের হয়ে পরলাম। কানে বেশ নরম গান বাজছে আর আমিও বেশ আয়েশ করে সাইকেল চালাতে শুরু করলাম।

বাসা থেকে ৫-১০ সেকেন্ড লাগে মিরপুর রোডে উঠতে। মেইন রোডে উঠতেই প্রথম মুগ্ধতা। চার নাম্বার মেট্রোরেল স্টেশনটার গুহা দূর থেকে ধোয়া আর আলো আধারির একটা রহস্য পথের মত রোমাঞ্চকর লাগছিল। দূর থেকে ছুটে আসা একটা বাহনের জলজলে হেড লাইএ সেটাকে আরো রহস্যময় করে তুলেছিল। একটা ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলামনা। মেট্রোরেলের পাশ দিয়ে ধীর লয়ে এগিয়ে চলেছি আগারগাঁও এর দিকে। পুরো পথ একদম ফাঁকা। দুই একটা পিকআপ যাওয়া আসা করছে আর দুই একটা বাইক। ফাঁকা পথ পেয়ে কখন যে সাইকেলের গতি বেড়ে গেছে বুঝতেই পারিনি।

মাত্র ১৫ মিনিটেই আগারগাঁও চলে এলাম। তখন ভাবলাম এতো দ্রুত যেহেতু এতোটা পথ চলে এলাম তাহলে আর একটু এগিয়ে গিয়ে, হাতিরঝিলে একটা চক্কর দিলে কেমন হয়? সেই ভাবনা মাথায় আসতেই সাইকেলের গতি আরো বেড়ে গেল অজান্তেই। একদম ঝকঝকে মানিকমিয়া এভিনিউ এর মিহি পথে তখন আমিই একমাত্র আরোহী। যেটা সাইকেলের গতি আরো বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করলো। দুপাশে ঘন সবুজের হাতছানি, মিহি সবুজ মখমলের মত গালিচা স্নিগ্ধ সকালের শান্ত মনকে আরও আদ্র করে দিল। বাধ্য হলাম সাইকেল থামিয়ে দুটো ছবি তুলতে। এই প্রথম মনে হল আরে ঢাকা শহর তো আজ একদম অন্য রকম লাগছে! এতো নিরব, এতো শান্ত, এতো স্নিগ্ধ আর এতোটা অপরুপ ঢাকা শহর তো আগে কোনদিন চোখে পড়েনি!

এসব ভাবনার মধ্যে পরের দশ মিনিটে আমি প্রায় কারওয়ান বাজার চলে এলাম। তখন মাত্র ৩০ মিনিট হয়েছে সাইকেল চালানোর। এই সময়ে এতটা পথ চলে এসেছি দেখে মনের মধ্যে নতুন ভাবনা এলো, আরে হাতিরঝিলে তো প্রায়ই চালানো হয় অফিসে যেতে আসতে, তাহলে আজ না হয় আর একটু সামনে এগিয়ে যাই নতুন রুট ধরে। তখন মনে মনে ঠিক করলাম, আচ্ছা ঘড়ি ধরা এক ঘন্টা চালিয়ে যতটা সম্ভব যাই, তারপরের এক ঘন্টায় বাসার পথে ফিরে আসবো। আবারো ভাবনার পরিবর্তন হয়ে যেতেই, কারওয়ান বাজার থেকে বাঁয়ে হাতিরঝিল না গিয়ে সোজা শাহবাগের দিকে এগোলাম। পুরো রাজপথে আমার সাইকেল আর দুই একটা রিক্সা ছাড়া আর কিছু নেই। কি যে অদ্ভুত আনন্দ আর মনের মধ্যে একটা সুখ সুখ অনুভূতি হচ্ছিল বোঝানো মুশকিল। এদিকে সাইকেলের গতি আরো বেড়ে গিয়েছিল আমার অজান্তেই।

বাংলামোটর পার হতেই মনে হল, অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল সবুজে ঘিরে থাকা, ঢাকার সবচেয়ে বনেদী পথ, মিন্টো রোড ধরে হেটে যাওয়ার। সেই ইচ্ছে মনে হতেই সাইকেল ঘুরিয়ে দিলাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের আগের বায়ের পথে। মোড় ঘুরতেই মুগ্ধতা আমাকে থেমে যেতে বাধ্য করলো। দারুন ঝকঝকে আর মিহি পথের দুপাশে সবুজের মায়াময় প্রকৃতি আবেশে ঘিরে ধরলো। তখনো তো জানিনা সামনে যে আরো আরো মুগ্ধতা আর বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করছে। দুটো ছবি তুলেই সাইকেলের এগিয়ে যাওয়া। এবার ডানে মোড় নিয়ে রমনার দিকে। আমার চোখে পুরো ঢাকার তো বটেই, পুরো দেশের সবচেয়ে বনেদী আর অভিজাত এলাকা এটা। একদম যেমন করে ঢাকা শহরের সেজে থাকা দরকার এই পথ আর এই পথের প্রকৃতি সেই সাথে এর চারপাশের ভবন গুলোও ঠিক তেমন করেই আছে! আহ আফসোস হল কেন পুরো শহরটা এমন রুপে নেই!

রমনার দিকে তাকিয়ে, দুপাশের বড় বড় গাছ আর সবুজের সমারোহ দেখে সবচেয়ে বেশি আফসোস হল আর মনে মনে বলতে বাধ্য হলাম ওরা কারা, যারা এই রমনার, ঢাকার প্রান এই বনভূমি ধংস করে গাছ কেটে রেস্টুরেন্ট বানাতে চায়! ওরা কি মানুষ আসলেই! কারা এসব ভাবে! কারা তাতে সায় দেয় আর কারাই বা এসব করতে এগিয়ে যায়! এরা আর যাই হোক বিবেকবান কোন মানুষ হতে পারেনা কিছুতেই। কয়েকটা মোড়ে দাড়ালাম একটা নতুন ঢাকাকে এই প্রথমবার মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলাম। গাছ, সবুজ, ঝকঝকে পথ, মেঘলা আকাশ, স্নিগ্ধ সকাল, পাখির কিচিরমিচির, মোহময় চারদিক! দেখে দেখে বিস্ময় জাগছিল মনে! এটা কি সত্যিই আমাদের সেই ঘাম, জ্যাম আর অসহ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া ঢাকা! আসলেই আমি ঢাকার রাজপথে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি!

সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, বিস্মিত হয়ে থেমে যাচ্ছি, ছবি তুলছি আর ভাবছি, হায় আমাদের ঢাকা শহর এটা আমি তো আগে জানিনি, দেখিনি, বুঝিনি। কেন এই শহরের এতো রুপ আমার চোখে আগে পড়েনি! কত শহর নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা লিখলাম, কিন্তু নিজের আবাসের শহরের যে এতো এতো রুপ আছে তা কেন লুকিয়েছিল এতোদিন! আফসোসে পুড়তে লাগলাম ক্ষনে ক্ষনে। কখন যেন সাইকেল হাইকোর্ট পেরিয়ে গুলিস্তানের দিকে চলে গেছে বুঝতেই পারিনি। কিন্তু সেদিকে বেশ সংস্কার কাজ চলাতে আর এগোলাম না। দিক ঘুরিয়ে ডানে ঢুকে পরলাম।

শুরুতে বুঝতে পারিনি কোন দিকে যাচ্ছি। একটু পরে দেখি আরে এ যে কার্জন হলের পথ। একপাশে বিরাট মেট্রোরেল আর অন্যপাশের নার্সারি গুলো ঘিরে রাখা বলে চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল। কার্জনহল গেটে দাঁড়িয়ে দুটো ছবি তুলে নিলাম। দারুন সকাল আর অপুর্ব লাল সবুজের। দূরেই দোয়েল চত্বর চোখে পড়ছিল। সেখানে গিয়ে আর একবার ছবি তোলার জন্য দাড়ালাম। ছবি তুলে আবারো মেট্রোরেলের নিচ দিয়ে ডানের দিকে ঢুকে গেলাম। ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কোন দিকে যাচ্ছি! একটা সময় দেখি আরে এতো হ্যাংলা একাডেমি! তখন বুঝলাম চারদিক নতুন করে গড়ে উঠছে বলে চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল। তারপর টিএসসি হয়ে নিউমার্কেটের দিকে এগোলাম।

আহা কি অদ্ভুত স্নিগ্ধতা চারদিকে, সবুজ পাতা, মেঘে ঢেকে থাকা আকাশ, লাল হলুদ ফুল, ঝকঝকে পথ আর আমার সাইকেল। এঁকেবেঁকে সাইকেল চালালাম নিজের ইচ্ছেমত! থেমে গেলাম স্মৃতি চিরন্তন এর কাছে। আবারো ছবি তুলতে বাধ্য হলাম এমন অপরুপ রুপের নতুন দেখা ঢাকা শহরের। থামলাম কয়েক মিনিট। তারপর মেঘ আরো ঘন কালো হয়ে উঠতে শুরু করতেই এক টানে মিরপুর রোড হয়ে চন্দ্রিমা। একটু ব্রেক নিয়ে পানি খেয়ে ক্লান্তি দূর করেই একটানে মিরপুর ১২। আমার আবাসে। দারুণ একটা সকাল, অদ্ভুত আনন্দ নিয়ে করা সাইক্লিং আর প্রেমে পড়ে যাওয়া অপরুপ ঢাকাকে দেখার মুগ্ধতার রেশ বুদ থাকতে থাকতেই টিভি ছেড়ে দেখি প্রিয় সাদা আকাশি হয়ে গেছে এক গোল!

খেলা দেখে, এই লেখা মাথর মধ্যে সাজাতে সাজাতে, নাস্তা করে নিয়ে, খেলা শেষ হতেই ঘুম। এক ঘুমে বিকেল, তারপর দুপুরের খাওয়া শেষ করেই, ভালোবেসে ফেলা ঢাকা শহরকে নিয়ে লিখতে বসা। আমার দেখা নতুন, বনেদী, স্নিগ্ধ আর মুগ্ধতায় মোড়ানো ঢাকা শহর, আজ থেকে আমার অন্যতম আর প্রিয় শহরের তালিকায় ঢুকে যাওয়া।

০৭ জুলাই ২০২১


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © ২০২১ SNB 24 BD
Theme Customized BY Theme Park BD